দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিনোপেক। বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি তুলনামূলক কম দামের রুশ তেল কিনে সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলা করছে বলে জানিয়েছে একাধিক বাণিজ্য সূত্র ও জাহাজ চলাচলের তথ্য।
সূত্রগুলোর মতে, ব্রাজিল ও পশ্চিম আফ্রিকার তুলনায় রাশিয়ার তেল সস্তা হওয়ায় সিনোপেক তুলনামূলক স্থিতিশীলভাবে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং বাড়তি জ্বালানি রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও ইরান যুদ্ধজনিত বাণিজ্য বিঘ্নের কারণে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে মার্চ থেকে জ্বালানি পণ্য রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল চীন।
বাণিজ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরবরাহের জন্য সিনোপেক রাশিয়ার পূর্ব সাইবেরিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাইপলাইন থেকে আসা ৩০ থেকে ৪০ চালান, অর্থাৎ দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল কিনেছে। এটি প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক ৫২ লাখ ব্যারেল তেল শোধন সক্ষমতার প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ।
সিনোপেকের একজন প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সা অ্যানালিটিকসের চীনবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক এমা লি বলেন, জ্বালানি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হওয়ার পর সিনোপেকের অপরিশোধিত তেলের চাহিদা নিম্নতম পর্যায় থেকে ঘুরে দাঁড়ালেও সেই পুনরুদ্ধার এখনো সীমিত।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ চীন সামগ্রিকভাবে অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। জুন মাসে দেশটির আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ কমে যায়। তবে জুলাই ও আগস্টে জ্বালানি রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
এমা লি বলেন, আমদানি ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিবর্তে চীন এখন এমন উৎস থেকে তেল সংগ্রহে গুরুত্ব দিচ্ছে, যেখান থেকে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এবং পরিবহন ব্যয় কম। এ কারণে স্থলভিত্তিক মজুত এবং রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে আসা তেলের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।
তার তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে সিনোপেক প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল রুশ তেল সংগ্রহ করেছে, যার বেশির ভাগই শানতুং প্রদেশের রিঝাও বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের জন্য অন্তত ১০টি করে চালান কেনা হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন ও ভারত রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। তবে যুক্তরাষ্ট্র রুশ তেল উৎপাদক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর গত অক্টোবর সিনোপেকসহ চীনের বড় রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলো রুশ তেল কেনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক ছাড়ের সুযোগে মার্চ ও এপ্রিল মাসে সিনোপেক আবার রুশ তেল আমদানি শুরু করে। এরপর ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ সংকুচিত হলে প্রতিষ্ঠানটি আরও বেশি তেল কিনতে থাকে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চার ব্যক্তি জানান, সাম্প্রতিক রুশ তেল কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন হয়নি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এসব কেনাকাটা করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই সিনোপেক রুশ তেলের মূল্য চীনা মুদ্রায় পরিশোধ করে আসছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে সিনোপেকের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় অর্ধেকই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসত এবং সৌদি আরব ছিল তাদের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী।
বাণিজ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুন ও জুলাই মাসে সিনোপেক সৌদি আরব থেকে কোনো অপরিশোধিত তেল কেনেনি। আগস্টে তারা মাত্র ২০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়েছে। অথচ মার্চ ও এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি সৌদি আরব থেকে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল করে তেল আমদানি করেছিল। এছাড়া ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের বছরে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল সৌদি তেল আমদানি করেছিল তারা।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য রাশিয়ার ওই তেল আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় প্রতি ব্যারেলে ১ থেকে ২ ডলার কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এটি মধ্যপ্রাচ্য ও ব্রাজিলের প্রতিযোগী তেলের তুলনায় প্রায় ১০ ডলার সস্তা।
সূত্র: রয়টার্স
/অ